ইরান ও ফিলিস্তিনে শাহাদাতের স্মরণে প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশ করেছে আল-কুদস কমিটি চট্রগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক,
চট্টগ্রামে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমা উপলক্ষে পালিত আল-কুদস দিবস।
আজ ১৩ই মার্চ, শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সংলগ্ন সড়কে আল-কুদস কমিটি, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি, শাহাদাতের স্মরণে প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনি (রহ.) রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে “আল-কুদস দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ পবিত্র মসজিদুল আকসা ও ফিলিস্তিনের মজলুম জনগণের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কণ্ঠ তুলতে পারে। সেই ঐতিহাসিক আহ্বানের ধারাবাহিকতায় আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বক্তারা বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা সূরা আলে ইমরান (৩:১০৩) এ নির্দেশ দিয়েছেন: “তোমরা সবাই আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।” বক্তারা বলেন, এই আয়াত মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা, মসজিদুল আকসার মর্যাদা রক্ষা এবং মজলুম মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলী আবারও প্রমাণ করেছে যে ফিলিস্তিন প্রশ্ন আজও মানবতার একটি বড় পরীক্ষা। গাজাসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সমর্থিত আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে এবং মজলুম জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম এবং পাশ্চাত্যের কিছু প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার পরিবর্তে অনেক সময় ঘটনাগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। তারা বলেন, সত্যিকারের বাস্তবতা ও মজলুম মানুষের কণ্ঠ অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ইরানবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী নানা ধরনের প্রচারণা ও প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, যা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
বক্তারা আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে মুসলিম সমাজের মধ্যেও কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য, অযৌক্তিক ফতোয়াবাজি এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এসব বিভ্রান্তি ও ফিতনার বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত শহীদদের শাহাদাত গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং বলেন যে, এই রক্তের ধারা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বক্তারা আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেই-এর বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসন ও তাকে লক্ষ্য করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে তারা তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম উম্মাহর জন্য একজন অভিভাবকসুলভ নেতৃত্ব ও প্রতিরোধের প্রতীক ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে এই ধরনের হামলা মানবতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
আজকের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন:ডক্টর আমির হোসেন, সিএমসি,চট্টগ্রাম।সভাপতি আঞ্জুমানে মুহিব্বানে এহলে বায়েত, চট্টগ্রাম
ম. নুরুল আফসার তৈয়বি, শাহজাহান আলী, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুমানে মুহিব্বানে এহলে বায়েত, চট্টগ্রাম
সৈয়দ ফিরাজ আলী আবেদি, হুজ্জাতুল ইসলাম ও ইমাম জামাত হালিশহর হুসেইন (আ:) ট্রাস্ট ইমামবারগাহ, চট্টগ্রাম
সভাপতি হালিশহর হুসেইন (আ:) ট্রাস্ট ইমামবারগাহ, চট্টগ্রাম
মেহেদী হোসেন চৌধুরী,
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রেস ক্লাব সংলগ্ন সড়কে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয় এবং পরে একটি প্রতিবাদী মিছিল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে চেরাগী পাহাড় হয়ে পুনরায় প্রেস ক্লাবে এসে সমাপ্ত হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে বিশ্বব্যাপী জনমত আরও জোরালো হবে এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে একদিন মসজিদুল আকসা দখলমুক্ত হবে এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

